Monday, 6 April 2020

সোশ্যাল মিডিয়ার খবরের সত্যতা নিজেই যাচাই করবেন কিভাবে?

Facebook বা Whatsapp এ নতুন কোনো খবর পাওয়া মাত্র প্রায়ই আমরা উত্তেজনার বশে ঠিকভুল খোঁজ না করেই সেগুলো শেয়ার বা ফরোয়ার্ড করে ফেলি। পরে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই খবরগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, কিন্তু ততক্ষণে আমরা গুজব ছড়িয়ে ফেলেছি এবং নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কিও শুরু করে দিয়েছি। কিন্তু একটু সতর্ক থাকলে হয়তো এসব খবরের সত্য মিথ্যা আপনি নিজেও যাচাই করতে পারেন। তাই প্রথমসারির সংবাদপত্র বা কোনো অফিসিয়াল সোর্স ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার খবরের ওপর চট করে বিশ্বাস করবেন না, ফরোয়ার্ড বা শেয়ার করার আগে অন্ততঃ ইন্টারনেটে একটু খোঁজ করে নেবেন। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখলে হয়তো আপনি ভুয়ো খবরের হাত থেকে অনেকটাই বাঁচতে পারবেন।

Reverse Image Search: সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকসময় পুরোনো ছবি কেও বর্তমান ঘটনার সাথে জুড়ে দেওয়া হয় বা একজায়গায় ছবিকে অন্যজায়গার ছবি বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। Google Reverse Image Search এর মাধ্যমে আপনি ছবি দিয়েই সার্চ করতে পারবেন। (সন্দেহজনক ছবিটিকে download করে search অপশনে upload করতে হবে শুধু।) ছবির সাহায্যে সার্চ করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।

সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট/ টুইটার চেক করুন: সরকারি নির্দেশিকা সর্বদা সরকার তাদের নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা টুইটার হ্যান্ডেলে প্রকাশ করে। তাই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য নির্দেশিকার কোনো ভিত্তি নেই।

তারিখ খেয়াল করুন: অনেক সময় অনেকে কোনো পুরোনো ঘটনার ছবি বা ভিডিও নতুন ঘটনা ভেবে শেয়ার করে ফেলেন। তাই শেয়ার করার আগে তারিখ অবশ্যই খেয়াল করবেন।

খবরের উৎস খেয়াল করুন: সাধারণত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং প্রথমসারির পরিচিত মিডিয়াই হল যেকোনো খবরের বিশ্বস্ত সূত্র। এছাড়া কোনো সেলিব্রিটি সংক্রান্ত কোনো খবরের সত্যতা যাচাই করার জন্য তার অফিসিয়াল টুইটার/ ফেসবুক / ইন্সট্রাগ্রাম দেখতে পারেন।

সত্য জানতে প্রশ্নশীল হোন: স্কুলে অনেকসময় দেখা যায় বাচ্ছারা পড়া না বুঝেই ঘাড় নেড়ে দেয়, এতে যে প্রকৃত শিক্ষালাভ হয় না তাতে কোনো দ্বিমত নেই। তাই একটু অন্যরকম বা বিতর্কমূলক খবর শেয়ার করার আগে ভাবুন সেই ব্যাপারটা সম্ভব কিনা বা যৌক্তিকতা আছে কিনা। তারপরে ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখুন।

সত্য কখনো চাপা থাকে না, তাই গুজব ছড়িয়ে বোকামি করবেন না। গুজব ছড়ানো আইনত অপরাধ। ধন্যবাদ

You may also read:
How to search with IMAGE 

Wednesday, 11 March 2020

সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন মন্তব্য, কুরুচিকর পোস্ট বা সংস্কৃতি বিকৃতির সাজা কি?

র্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে প্রায়শই এই সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর পোস্ট থেকে শুরু করে অশালীন মন্তব্য, সংস্কৃতি বিকৃতি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত ইত্যাদি নানান অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে থাকে। এই সমস্ত ঘটনা অনেক মানুষকেই আঘাত করে। তবে আইনত এই ধরনের ঘটনাগুলি অপরাধ এবং এর জন্য যথেষ্ট সাজার ব্যবস্থাও রয়েছে।



অপরাধ বা offence মূলত দুই প্রকার,
  • Cognizable Offence: মারাত্মক অপরাধ যেমন: খুন, ধর্ষণ, চুরি, অপহরণ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে পুলিশ অভিযোগ বা FIR পেলেই warrant ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে। 
  • Non Cognizable Offence: তুলনামূলক লঘু অপরাধ যেমন: প্রতারণা, জালিয়াতি, মানহানি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে গেলে warrant লাগে।
এসব অপরাধের মধ্যে কিছু অপরাধ জামিনযোগ্য, কিছু আবার জামিন অযোগ্য।

 এখানে ক্লিক করে জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধের তালিকাটি পড়ে ফেলুন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করার সাজা কি ?
১) জনসমক্ষে কাউকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা অপরাধ। যদি কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় গালিগালাজ করেন তাহলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে। এটা ধারাটি জামিনযোগ্য, তবে cognizable offence  হওয়ায় পুলিশ আদালতের অনুমতি অর্থাৎ warrant ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে।

এখানে ক্লিক করে ২৯৪ ধারা সম্পর্কে আরও জেনে নিন।

২) এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন পোস্ট বা মন্তব্য করলে অপরাধীকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭C ধারাতেও গ্রেফতার করা যেতে পারে। এই ধারাটি অবশ্য জামিন অযোগ্য এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় বিষয়ে কোনো কুমন্তব্য করার শাস্তি কি?
ধর্মীয় বিষয়ে কুমন্তব্য বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫A ধারায় অপরাধীর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। এই ধারাটি জামিন অযোগ্য এবং cognizable offence হওয়ায় পুলিশ warrant ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে।

ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, ভাষা, সম্প্রদায় ইত্যাদি বিষয়ে ঘৃণা ছড়ানোর শাস্তি কি?
এটি cognizable offence হওয়ায় পুলিশ warrant ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। 

Click here to read FAKE NEWS (PROHIBITION) BILL 2019

Saturday, 18 May 2019

Fixed Deposit Interest এর ওপর ব্যাঙ্ক TDS কেটে নিলে কি করবেন এবং কিভাবেই বা ব্যাঙ্কের TDS কেটে নেওয়া এড়াবেন ?

TDS কি ?

TDS এর পুরো কথা Tax Deducted at Source অর্থাৎ এক্ষেত্রে কারোর মোট আয়, করযোগ্য কিনা সেসব হিসাবের আগেই সরাসরি আয়ের উৎস থেকে Tax কেটে নেওয়া হয়।


কারা কাদের থেকে TDS কেটে নেয় ?

সাধারণত কোনো সংস্থা যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে বেতন, কমিশন, সুদ ইত্যাদি বাবদ অর্থ প্রদান করে, তাহলে ওই সংস্থা ব্যক্তিকে দেওয়া অর্থ থেকে TDS কেটে নিয়ে বাকি টাকা ব্যক্তিকে দেয়। তারপর ওই সংস্থা, ব্যক্তির থেকে TDS বাবদ কেটে নেওয়া অর্থ সরকারের কাছে জমা দেয়।

ব্যাঙ্ক কখন TDS কাটে ?

ব্যাঙ্ক সাধারণত স্থায়ী আমানতের সুদের (Fixed Deposit Interest) ওপর TDS কাটে। আয়কর আইনের 194A ধারা অনুযায়ী, যদি একটি FD (Fixed Deposit) বা একই ব্যাঙ্কে থাকা সমস্ত FD থেকে প্রাপ্ত মোট বার্ষিক সুদের অঙ্ক ১০,০০০ টাকার উর্দ্ধে হয় (২০১৯ বাজেটে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সুদ থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক আয় ৪০,০০০ টাকার উর্দ্ধে হলে তবেই TDS কাটা হবে) তাহলে, ব্যাঙ্ক প্রদত্ত সুদের ওপর ১০% হারে TDS কাটবে(যদি PAN details দেওয়া থাকে)। ব্যাঙ্কের রেকর্ডে PAN details না থাকলে ব্যাঙ্ক ২০% হারে TDS কাটবে।

ব্যাঙ্কে কেটে নেওয়া TDS বাবদ অর্থ কি ফেরত পাওয়া যায় ?

যদি আপনার মোট বার্ষিক আয় করযোগ্য না হয়, তাহলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে অবশ্যই কেটে নেওয়া TDS আপনি ফেরত পেতে পারেন, অথবা বার্ষিক মোট আয় করযোগ্য হলেও, যে টাকা TDS কাটা হয়েছে ট্যাক্সের পরিমান তারচেয়ে কম হলে বাকি টাকা Refund পেতে পারেন।

ব্যাঙ্ক TDS কাটছে কিনা কিভাবে বুঝবেন ?

অনেকসময় ব্যাঙ্ক FD Interest এর ওপর TDS কেটে নিলেও আমানতকারী তা বুঝতেই পারেন না, কারণ বেশিরভাগক্ষেত্রেই FD interest accrued হিসাবে পাওয়া যায়। তাই খোঁজখবর না রাখলে বছরের পর বছর TDS কাটলেও আমানতকারী তা জানতেও পারবেন না এবং দেরিতে জানলে, কেটে নেওয়া টাকা ফিরে পাবার সম্ভাবনাও কমে যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, হয়তো কেউ তিন বছরের জন্য কিছু টাকা FD (Fixed Deposit) করেছিলেন, কিন্তু তিনবছর শেষে FD matured হওয়ার পর দেখা গেল যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তার থেকে কম টাকা পেয়েছেন। ব্যাঙ্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেল প্রত্যেক বছর FD interest এর ওপর TDS কাটা গেছে। সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র শেষ অর্থবর্ষ ছাড়া বাকি বছরগুলোতে কেটে নেওয়া TDS ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব, কারণ সেইসব বছরগুলোর আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।

তাই ব্যাঙ্কে FD থাকলে অবশ্যই প্রত্যেক বছর ব্যাঙ্ক থেকে TDS Certificate (16A) নিন অথবা অনলাইনে TRACES থেকে 26AS ডাউনলোড করুন।

অনলাইনে 26AS ডাউনলোড করার পরে কি আবার ব্যাঙ্কে গিয়ে TDS Certificate (16A) নেওয়ার প্রয়োজন আছে ?

TDS কাটা গেছে কিনা সেটা জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অনলাইনে 26AS ডাউনলোড করে নেওয়া। 26AS থেকেই TDS সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে। তবে অনেকসময় ব্যাঙ্ক TDS কেটে নিলেও 26AS এ আপডেট করতে ভুলে যায়, তাছাড়া অর্থবর্ষের শেষ কোয়ার্টার অর্থাৎ Jan-Mar কোয়ার্টারের TDS রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১শে মে হওয়ায়, ৩১ শে মে এর আগে ব্যাঙ্ক চট্ করে 26AS এ শেষ কোয়ার্টার আপডেট করে না। তাই ব্যাঙ্ক থেকে TDS Certificate (16A) নিলে TDS এর হিসাবে ভুলের সম্ভাবনা কম থাকে।

ব্যাঙ্কের TDS কেটে নেওয়া এড়াতে চাইলে কী করতে হবে ?

যদি ব্যাঙ্কে আপনার কোনো FD থাকে, তাহলে অর্থবর্ষের শুরুতেই (এপ্রিল মাসে) 15G (৬০ বছরের কম বয়স হলে) বা 15H (সিনিয়র সিটিজেন অর্থাৎ ৬০ বছর বা তার বেশি বয়স) Form fill up করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে দিন।

Form 15G / 15 H কি ?

FD থেকে প্রাপ্ত সুদবাবদ আয়ের ওপর ব্যাংক যাতে TDS না কাটে সেজন্য অর্থবর্ষের শুরুতেই (এপ্রিল মাসে) ব্যাঙ্কে Form 15G / 15 H জমা দিতে হয়। এগুলি একধরণের Declaration Form. ৬০ বছরের নীচে বয়স হলে 15G fillup করে জানাতে হয় সুদবাবদ বার্ষিক মোট আয়, করযোগ্য আয়ের তুলনায় কম ( ২.৫ লক্ষ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে)। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়স হলে 15H fillup করে জানাতে হয় সুদবাবদ বার্ষিক মোট আয় করযোগ্য আয়ের তুলনায় কম ( ৬০-৭৯ বছর পর্যন্ত  ৩ লক্ষ, ৮০ বছর বা তার উর্দ্ধে ৫ লক্ষ, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে)

Saturday, 11 May 2019

বিভিন্ন ট্যাক্স বা কর সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ট্যাক্স বা কর কথাটা আমাদের জীবনে নানাভাবে জড়িত। মিউনিসিপলিটি ট্যাক্স থেকে শুরু করে ইনকাম ট্যাক্স, জি.এস.টি., প্রফেশন ট্যাক্স আরও অনেক ট্যাক্স রয়েছে। ট্যাক্সের যেমন অনেক ভাগ রয়েছে, তেমনই সরকার দ্বারা আদায়কৃত সব চার্জই ট্যাক্স নয়। যেমন ধরুন, হাইওয়েতে যে টোল নেওয়া হয়, তাকে আমরা অনেকসময় টোল ট্যাক্স বলে থাকি। কিন্তু জেনে রাখুন 'টোল'কে ঠিক ট্যাক্স বলা চলে না। 



কর (Tax) কি ?

অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সরকার যে অর্থ জনগণের কাছে থেকে আদায় করে, তা হল কর (Tax)

ভারতে কতরকমের ট্যাক্স রয়েছে এবং কি কি ?

ভারতে সাধারণত দু রকমের ট্যাক্স বা কর রয়েছে,
প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax), যা জনগণের কাছ থেকে সরাসরি সরকারের কাছে যায়।
যেমন: আয়কর (Income Tax)

পরোক্ষ কর (Indirect Tax), যা জনগণের কাছ থেকে অন্য কোনো সংস্থার কাছে যায়, তারপর সেখান থেকে সরকারের কাছে যায়।
যেমন: GST (দোকানদার ক্রেতার থেকে GST নেয়, তারপর সেটা সরকারের কাছে জমা দেয়।)

কর আদায়ের ভিত্তিতে কর কত রকমের ও কি কি?

সাধারণত তিন রকমের,

কেন্দ্রীয় কর (Central Tax)
যেমন: আয়কর (Income Tax)

রাজ্য কর (State Tax)
যেমন: SGST, Profession Tax ইত্যাদি।

স্থানীয় কর (Local Body Tax)
যেমন: সম্পত্তি কর (Property Tax)

কর (Tax) ছাড়াও সরকার জনগনের থেকে আরও অনেক charge আদায় করে থাকে, যেমন: revenue (রাজস্ব ), duty, cess, surcharge, toll ইত্যাদি। এগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।


Duty: Duty হল একটি বিশেষ ধরনের ট্যাক্স যা সাধারনত কোনো পণ্য বা নির্দিষ্ট কোনো আর্থিক লেনদেনের ওপর নেওয়া হয়। Duty ব্যাপারটা পণ্য আমদানি - রপ্তানির ক্ষেত্রে (এজন্য Duty কে on border tax ও বলা হয়ে থাকে) অর্থাৎ  Customs Department এর সাথেই বেশি জড়িত। ভারতে বিভিন্ন Duty চালু আছে যেমন: Excise duty, Custom duty, Stamp duty ইত্যাদি।

Cess: সেস্ হল ট্যাক্সের ওপর ট্যাক্স (ট্যাক্স কষা হয় আয়ের ওপর, কিন্তু সেস্ হিসাব করা হয় ট্যাক্সের ওপর), যা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্নতির লক্ষ্যে নেওয়া হয়। যেমন: স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির জন্য বর্তমানে Health & Education Cess নেওয়া হয়।

Surcharge: Cess এর মত Surcharge ও ট্যাক্সের ওপর হিসাব করা হয়। তবে তফাৎ হল Surcharge সাধারণত ধনীদের থেকেই আদায় করা হয় ( যেমন: বার্ষিক যায় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটির মধ্যে হলে করদাতাকে আয়করের ওপর ১০% surcharge দিতে হয়।)

Toll: টোল হল একধরনের ফি যা সাধারণত কোনো ব্রিজ না হাইওয়েতে চলাচলকারী যানবাহন থেকে আদায় করা হয় সেই ব্রিজ বা হাইওয়ের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

Revenue (রাজস্ব): সাধারণত, জনগণের ওপর সরকার যে সব চার্জ চাপায় সেগুলো Tax, Duty ইত্যাদি নামে পরিচিত। সরকার যখন সেগুলো collect করে, তখন সেটাকে Revenue বলা হয়। অর্থ্যাৎ Taxও হল একধরনের Revenue.

TDS (Tax Deducted at Source): আয়কর আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা (Deductor) যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে (Deductee) কোনো ফি, কমিশন, সুদ ইত্যাদি প্রদান করে, তাহলে প্রদানকারী ব্যক্তি বা সংস্থা (Deductor) যাকে প্রদান করছে (deductee) তাকে দেওয়া অর্থ থেকে ট্যাক্স কেটে নিয়ে সরকারের কাছে জমা দিতে পারে। মানে এক্ষেত্রে ব্যক্তি আয়কর জমা দেওয়ার আগেই অর্থপ্রদানকারী সংস্থা আয়কর কেটে সরকারের কাছে জমা দেয়। তবে অনেকক্ষেত্রে form 15G/15H জমা দেওয়ার মাধ্যমে TDS কেটে নেওয়া এড়ানো যায়। আবার অনেকসময় আয়কর রিটার্ন দাখিল করে, কেটে নেওয়া TDSবাবদ অর্থ ফেরতও পাওয়া যায়।

Wednesday, 1 May 2019

জমি-বাড়ি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং মিউটেশন - পশ্চিমবঙ্গ/ Some Important facts on Property related matters & Mutation of property in West Bengal

হাসপাতাল এবং কোর্ট এই দুটো জায়গাতেই মানুষ যেতে না চাইলেও অধিকাংশ মানুষকেই সারাজীবনে অন্তত একবার হলেও যেতে হয়। আর কোর্ট কাছারির ব্যাপারে সবচেয়ে সাধারণ বিষয় হল সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যা। তবে আপনার সম্পত্তির সমস্ত আইনি কাগজপত্র যদি ঠিকঠাক থাকে বা সময় থাকতে যদি সব কাগজ ঠিক করে নেন তাহলে সমস্যার কোনো প্রশ্নই নেই বা সমস্যা হলেও তার দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে। তাই সম্পত্তি সংক্রান্ত কিছু সাধারণ বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন।




ব্লক: ব্লক হল জেলার উপজেলা বা Sub Division. অনেকগুলি ব্লক নিয়ে একেকটি জেলা গঠিত হয়।

মৌজা: মৌজা হচ্ছে খাজনা (Tax) আদায়ের সর্বনিম্ন একক এলাকা। প্রতিটি ব্লককে কয়েকটি মৌজায় ভাগ করা হয়।

জে.এল. নং (JL No): JL no এর পুরো কথা Jurisdiction List No. প্রতিটা মৌজার একটা নির্দিষ্ট J.L. No. থাকে।

খতিয়ান নং: খতিয়ান একটি পার্সি শব্দ। জমি চিহ্নিতকরণের জন্য খতিয়ান নং ব্যবহার করা হয়। কোনো ব্যক্তির একটি মৌজায় যতগুলি জমিই থাক না কেন, সবকটির খতিয়ান একই হবে।
খতিয়ান সাধারণত তিনপ্রকার,
১) LR খতিয়ান: LR এর পুরো কথা Land Reforms. যতবার জমির মিউটেশন করা হবে, ততবার LR খতিয়ান পাল্টে যাবে।
২) RS খতিয়ান: Revisional Settlement, 1962 অনুযায়ী তৈরি খতিয়ান।
৩) CS খতিয়ান: Central Settlement 1926 অনুযায়ী তৈরি খতিয়ান। 

দাগ নং (Plot no): দাগ নং দিয়ে জমিকে নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা হয়। একটি মৌজায় প্রতিটি জমির আলাদা আলাদা দাগ নং থাকে।

পর্চা কি?
 পর্চা হল জমির উপর কারোর অধিকারের আইনি প্রমাণপত্র। আইনি ভাষায় একে বলা হয় ROR বা Records Of Right. পর্চায় মৌজা, জে. এল. নং, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির পরিমাপ এবং অবশ্যই জমির মালিকের নাম লেখা থাকে। BLRO অফিসে গিয়ে বা অনলাইনেও পর্চা বের করা যায়। জমির মালিক পরিবর্তন হলে নতুন করে জমির মিউটেশন করতে হয় এবং নতুন পর্চা বের করতে হয়। 

দলিল কি?
কোনো সম্পত্তির ওপর কারোর মালিকানার নথি হল দলিল।

Misc Case কি?
 Misc Case  এর পুরো কথা Miscellaneous Case. সম্পত্তি সংক্রান্ত যে case গুলিকে Civil Case হিসাবে গন্য করা হয় না, সেগুলিতে Civil Case no এর পরিবর্তে Misc. Case no দেয়া হয়।

মিউটেশন (Mutation) কি?
মিউটেশন মানে ক্রীত সূত্রে বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা বদল।

জমি-বাড়ির মিউটেশন করা প্রয়োজন কেন?
যদি কেউ মনে করেন, জমি বা বাড়ির দলিল রেজিস্ট্রি করে মালিকানা বদল করলেই তিনি সব দায় মুক্ত, তাহলে তিনি ভুল ভাবছেন। কারণ এরপর থেকে তাকে তার অধিকারে থাকা সম্পত্তির জন্য সম্পত্তি কর (Property Tax) দিতে হবে এবং সম্পত্তি কর দেওয়ার জন্যই তাকে মিউটেশন করতে হবে। মিউটেশন না করলে সঠিক মালিকের নামে সম্পত্তি কর দেওয়া যাবে না এবং সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে Penalty ও Interest হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিউটেশন করতে গেলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে?
  • জমির মিউটেশন করতে হলে নির্দিষ্ট ব্লকের BLRO অফিস এবং
  • বাড়ির মিউটেশন করতে হলে স্থানীয় মিউনিসিপালিটি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

নিজস্ব বাড়ির ক্ষেত্রে কি BLRO এবং Municipality দুটি মিউটেশনই করতে হবে?
হ্যাঁ, কারণ জমির রাজস্ব বা খাজনা (Revenue) দেওয়ার জন্য BLRO মিউটেশন এবং সম্পত্তি কর (Property Tax) দেওয়ার জন্য মিউনিসিপালিটি মিউটেশন করতে হবে।

ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রেও কি ফ্ল্যাটের মালিককে দুটি মিউটেশনই করতে হবে?
না, ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাটের মালিককে শুধুমাত্র মিউনিসিপালিটি মিউটেশন করতে হবে সম্পত্তি কর (Property Tax) দেওয়ার জন্য। এক্ষেত্রে BLRO মিউটেশন করার দায়িত্ব জমির মালিকের। তবে ফ্ল্যাটের মালিকের কাছে অবশ্যই জমির পর্চা থাকতে হবে।

মিউটেশন করতে গেলে সাধারণত কি কি কাগজপত্র লাগে?

নতুন কেনা সম্পত্তির মিউটেশনের ক্ষেত্রে:
  • কেনার দলিল (Sale Deed)
  • জমির পর্চা (ROR) (অনেকসময় নাও লাগতে পারে)
  • Affidavit on Rs.10 stamp paper
  • শেষ জমা দেওয়া সম্পত্তি করের (Property Tax) রশিদ।

সম্পত্তির মালিকের মৃত্যুর পর আইনত উত্তরাধিকারীর নামে মিউটেশনের ক্ষেত্রে:
  • মৃত্যু প্রমাণপত্র (Death Certificate)
  • সম্পত্তির দলিল (অনেকসময় নাও লাগতে পারে) 
  • জমির পর্চা (ROR)  
  • Warrision/ Succession/ Legal Heir Certificate 
  • Affidavit on Rs.10 stamp paper. 
  • শেষ জমা দেওয়া সম্পত্তি করের (Property Tax) রশিদ।
*প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মিউটেশন করতে গেলে নির্দিষ্ট মিউটেশন ফি দিতে হয়।

কনভার্সন (Conversion) কি?
কনভার্সন মানে জমির শ্রেনী পরিবর্তন। সাধারণ অবস্থায় সব জমিই হল কৃষি জমি, অকৃষিক্ষেত্রে জমি ব্যবহারের জন্য জমির শ্রেনী পরিবর্তন করা আবশ্যিক। এটাই হল কনভার্সন। মানে, ধরুন আগে একটা জমিতে চাষবাস হত, এখন সেই জমিতে চাষবাস না করে বাড়ি তৈরি করলে জমির শ্রেনী পরিবর্তন মনে কনভার্সন করতে হবে


বিভিন্ন এককে (বিঘা, কাঠা, শতক ইত্যাদি) জমির পরিমাপ কিভাবে করবেন তা জানতে নীচের লিংকে ক্লিক করুন:


Tuesday, 30 April 2019

পশ্চিমবঙ্গের কোনো জায়গায় মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে কি করবেন / What to do if mobile is lost or stolen in any place of West Bengal

প্রথমেই বলে রাখি, যারা মনে করেন মোবাইল হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না, কিন্তু  তারা একবার কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকে ঘুরে আসুন। হারানো ফোন ফিরে পাওয়া সংক্রান্ত ছবিসহ অনেক পোস্ট পেয়ে যাবেন। তবে ফোন হারিয়ে গেলে শুধুমাত্র লোকাল পুলিশস্টেশনে ডায়েরি করে সিম ব্লক করে দিয়েই যদি আপনি থেমে যান, তাহলে আপনার হারানো ফোন ফিরে পাবার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু এরপর যদি আপনি সঠিক জায়গায় অভিযোগ জানান, তাহলে আপনার হারানো ফোন ফিরে পাবার সুযোগ অনেকটাই বেড়ে যাবে।

হারানো ফোনের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে গেলে IMEI no উল্লেখ করতেই হবে। প্রতিটি ফোনের প্রতিটি SIM slot এর unique IMEI no থাকে। এই IMEI no এর ভিত্তিতেই হারানো ফোন Track করা সম্ভব। এমনকি যদি ফোনের SIM বদলে দেওয়াও হয়, তাহলেও IMEI no এর ভিত্তিতে ফোনের Location track করা যাবে। 
ফোন থেকে *#06# dial করলেই IMEI no screen এ দেখা যাবে। তবে হারিয়ে যাওয়া ফোনের ক্ষেত্রে তো সে উপায় নেই, তাই IMEI no আগে থেকে জানা থাকলে ভালো, নয়তো  ফোনের Purchase bill বা বাক্সের গায়েও IMEI no লেখা থাকে। এছাড়া Android এর ক্ষেত্রে Android Device Manager এবং iPhone এর ক্ষেত্রে iCloud এ log in করেও IMEI no জানা যায়।



কলকাতায় ফোন হারালে বা চুরি হয়ে গেলে কিভাবে অভিযোগ জানাবেন:
  1. Purchase invoice ও IMEI no সহ লোকাল থানায় জেনারেল ডায়েরি (GD) করুন।
  2. ডায়েরির কপি ও উপরোক্ত তথ্যসহ লালবাজার পুলিশস্টেশনে যোগাযোগ করুন বা 
  3. ডায়েরির কপি ও উপরোক্ত তথ্যসহ Deputy Commissioner of Police (Special) Detective Department এ মেল করুন dcddspl@kolkatapolice.gov.in এ। 
  4. Bondhu Kolkata Police Citizen এই app এর মাধ্যমে অনলাইনেই জেনারেল ডায়েরি (e GD) করা যাবে।

কলকাতা ছাড়া অন্য কোনো জেলায় ফোন হারালে বা চুরি হয়ে কিভাবে অভিযোগ জানাবেন:: 
  1. Purchase invoice ও IMEI no সহ লোকাল থানায় জেনারেল ডায়েরি (GD) করুন। 
  2. cidwestbengal.gov.in এ গিয়ে Public Stolen Mobile Registration Form fill up করুন।


হারানো ফোন উদ্ধার সম্পর্কিত বিষয়ে আরও বিশদে জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:




Monday, 8 April 2019

জমির পরিমাপ - পশ্চিমবঙ্গ / Land Measurement - West Bengal

বিঘা, কাঠা, শতক, ছটাক ইত্যাদি জমি পরিমাপের এককগুলির নাম প্রায় সকলেই অল্পবিস্তর শুনেছেন, কিন্তু এক বিঘা বা এক কাঠা জমি বলতে প্রায় কতটা জায়গা বোঝায় সেটা ধারণা করা অনেকের পক্ষেই মুশকিল। কারণ ছোটবেলা থেকে আমরা দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ পরিমাপের ক্ষেত্রে মিটার, সেন্টিমিটার, ফুট ইত্যাদি এককগুলোই বেশি ব্যবহার করে আসছি। আর তাই এই এককগুলোর সম্বন্ধে একটা স্পষ্ট ধারণাও রয়েছে, যেমনঃ ১ ফুট বলতেই পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করা কাঠের স্কেলের কোথায় আগে মাথায় আসবে। কোনো জায়গার মোট পরিমাপ মানে ক্ষেত্রফল বোঝাতে বর্গফুট বা বর্গমিটার ইত্যাদি এককই বেশি ব্যবহৃত হয়, আর তাই এগুলো নিয়েও আমাদের কিছুটা ধারণা আছে। কিন্তু বিঘা, কাঠা এগুলো দিয়ে  সাধারনত বড় জায়গা পরিমাপ করা হয়, তাই এক বিঘা জমি বলতে কত বর্গফুট জমি বোঝায় সেটা জানতে পারলে জায়গাটার পরিমাপ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা করা যায়।



বোঝার সুবিধার্থে নীচে জমি পরিমাপের বিভিন্ন এককের তুলনা করা হল,


জমির পরিমাপ

একর = ১০০ শতক
বিঘা = ৩৩ শতক
কাঠা = .৬৫ শতক
বিঘা = ২০ কাঠা

শতক = ৪৩৫. বর্গফুট (sq.ft.)
কাঠা = ৭২০ বর্গফুট (sq.ft.)
বিঘা = ১৪৪০০ বর্গফুট (sq.ft.)


সহজ উপায়
একর = বিঘা = ৬০. কাঠা = ১০০ শতক
বিঘা = ২০ কাঠা = ৩৩ শতক = ১৪৪০০ বর্গফুট
কাঠা = .৬৫ শতক = ৭২০ বর্গফুট = ১৬ ছটাক
কাঠা = ৪৫ বর্গফুট = ২০ গন্ডা




বিভিন্ন এককে জমির পরিমাপ হিসাব করতে (অর্থাৎ বিঘা থেকে কাঠা বা কাঠা থেকে শতক ইত্যাদি) নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

 
 
 
আরো পড়ুন: